ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় ঘটছে। ২০২৬ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছে। এই সংঘাতের কারণে ৩৩০,০০০ এরও বেশি মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে ৩,০০০ এরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ৪৩টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে, তবে তারা মার্কিন বা ইসরায়েলি জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইউরোপীয় দেশগুলিকে সতর্ক করেছেন যে তারা যদি মার্কিন এবং ইসরায়েলের সাথে সংঘাতে যোগ দেয়, তবে তারা ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে, হেজবোল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে একাধিক স্থানে রকেট হামলা চালিয়েছে, যা লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে হামলার পর থেকে ২১৭ জন নিহত হয়েছে। এই সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরায়েলের জন্য ১৫১.৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে।
অপারেশন এপিক ফিউরির প্রথম ১০০ ঘণ্টার খরচ ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতিদিন প্রায় ৮৯১ মিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতিতে, ইরান গালফের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর দিকে মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ইরানি ড্রোনের মধ্যে ৯টি আটক করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সৌদি আরবকে প্রয়োজন হলে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই সংঘাতের কারণে রাশিয়ার শক্তির পণ্যগুলোর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ইরানের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ committed করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তবে, পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।



