ফুটবল বিশ্বকাপের সমাপ্তি ঘটেছে, যেখানে স্পেন তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেছে। এই টুর্নামেন্টে ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ এবং অসংখ্য ভক্তের উন্মাদনা ছিল। টুর্নামেন্ট শেষে, দেশের অন্যতম শীর্ষ ফুটবল কোচ মারুফুল হক তাঁর দৃষ্টিতে সেরা একাদশ নির্বাচন করেছেন। অন্যদিকে, ফিফাও বিশ্বকাপের সেরা একাদশের জন্য খেলোয়াড়দের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করেছে।
মারুফুল হকের সেরা একাদশ
কোচ মারুফুল হক একটি আক্রমণাত্মক ৪-৩-৩ ফরমেশনে তাঁর সেরা দলটি সাজিয়েছেন। তিনি দুজন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারকে বিবেচনায় নিয়ে এই ফরমেশন বেছে নিয়েছেন। তাঁর দলে নতুন মুখ, স্পেনের তরুণ খেলোয়াড় এবং পরিচিত তারকাদের প্রাধান্য রয়েছে।
গোলরক্ষক
- ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে): মারুফুল হক ভোজিনিয়াকে বেছে নিয়েছেন কারণ তাঁর সামনে স্পেনের উনাই সিমন-এর মতো শক্তিশালী ডিফেন্ডার ছিল না। ভোজিনিয়া সব পরিস্থিতিতে দলকে নির্ভরতা দিয়েছেন।
রক্ষণভাগ
- আশরাফ হাকিমি (মরক্কো), রাইটব্যাক: মারুফুল হকের মতে, হাকিমি এই বিশ্বকাপে খেলা সব রাইটব্যাকের মধ্যে সবচেয়ে গতিময় এবং আক্রমণাত্মক।
- পাউ কুবারসি (স্পেন), সেন্টারব্যাক: কুবারসি বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় হয়েছেন। সেন্টারব্যাক হিসেবে দ্রুত রিকভারিতে তাঁর দক্ষতা উল্লেখযোগ্য।
- দায়োত উপামেকানো (ফ্রান্স), সেন্টারব্যাক: উপামেকানো রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও সহায়তা করতে পারদর্শী।
- মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন), লেফটব্যাক: এই পজিশনে কুকুরেয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মারুফুল হক মনে করেন। তিনি আক্রমণে বেশি থাকলেও প্রয়োজনে দ্রুত রক্ষণে ফিরতে পারেন।
মাঝমাঠ
- রদ্রি (স্পেন): রদ্রি কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট না করেই গোল্ডেন বল জিতেছেন। মারুফুল হক তাঁকে হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে বেছে নিয়েছেন, কারণ তাঁর পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রয়েছে।
- জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড), সেন্টার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার: গোল করা এবং গোল করানো – উভয় ক্ষেত্রেই বেলিংহাম দক্ষ।
- মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স), সেন্টার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার: ওলিসে নির্ভরযোগ্য এবং ডান বা বাঁ প্রান্ত থেকে খেলা তৈরিতে পারদর্শী।
আক্রমণভাগ
- লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): মারুফুল হক মেসির খেলোয়াড়ি দক্ষতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন মনে করেননি এবং তাঁকে ডান পাশে রেখেছেন।
- হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড), সেন্টার ফরোয়ার্ড: কেইন গোল করার পাশাপাশি দলের বিল্ডআপেও ভালো সহায়তা করেছেন।
- কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): এমবাপ্পে বাঁ পাশে খেলবেন। এই বিশ্বকাপে তাঁর ১০টি গোল রয়েছে এবং সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর ২২টি গোল রয়েছে।
কোচ হিসেবে মারুফুল হক ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশম-কে বেছে নিয়েছেন, কারণ তিনি খেলোয়াড়দের পজিশন অনুযায়ী খেলার স্বাধীনতা দেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি লিওনেল মেসি-কে নির্বাচন করেছেন।
ফিফার সেরা একাদশের মনোনয়ন
ফিফার ঘোষিত বিশ্বকাপের সেরা একাদশের মনোনয়ন তালিকায় স্পেনের পাউ কুবারসি এবং আয়মেরিক লাপোর্তে-এর নাম নেই, যদিও তারা স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে। ১৯ বছর বয়সী কুবারসি আসরের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। ভোটাররা ৩-৪-৩, ৪-৪-২ অথবা ৪-৩-৩ ফরমেশনের যেকোনো একটি বেছে নিয়ে দল গঠন করতে পারছেন।
মনোনীত খেলোয়াড়দের তালিকা
- গোলরক্ষক: উনাই সিমন (স্পেন), এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), জর্ডান পিকফোর্ড (ইংল্যান্ড), এলোয় রুম (কুরাসাও), ভোজিনহা (কেপ ভার্দে)।
- ডিফেন্ডার: মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন), পেদ্রো পোরো (স্পেন), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো (আর্জেন্টিনা), গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস (ব্রাজিল), দাইয়ো উপামেকানো (ফ্রান্স), ভার্জিল ফন ডাইক (নেদারল্যান্ডস), নুনো মেন্দেস (পর্তুগাল)।
- মিডফিল্ডার: জুড বেলিংহ্যাম, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে, লুকা মদরিচ, ইসমাইল সাইবারি, এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রি (স্পেন), লামিন ইয়ামাল (স্পেন)।
- ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেইন, মিকেল ওইয়ারজাবাল (স্পেন), হুলিয়ান কুইনোনেস (মেক্সিকো)।
স্পেন ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছে, যেখানে ফেরান তোরেসের ১০৬তম মিনিটের গোল শিরোপা নিশ্চিত করে।
Read Also
Source: prothomalo.com