মেসির পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানগত মূল্যায়ন
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্টরি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস (আইএফএফএইচএস) তাদের পারফরম্যান্স সূচকের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করেছে। যদিও ফিফার অফিসিয়াল গোল্ডেন বল পুরস্কারটি স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি জিতেছেন, আইএফএফএইচএস তাদের নিজস্ব তথ্যনির্ভর সূচক ব্যবহার করে মেসির সামগ্রিক অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সূচক ম্যাচ রেটিং, গোল, অ্যাসিস্ট এবং বিশেষ করে নকআউট পর্বে খেলোয়াড়ের প্রভাবের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়।
আইএফএফএইচএস জানিয়েছে, তাদের সিদ্ধান্ত আবেগ বা খ্যাতির উপর ভিত্তি করে নয়, বরং পরিসংখ্যানের নির্ভুল মূল্যায়নের উপর নির্ভরশীল। সংস্থাটি ১৯৯১ সাল থেকে ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করে আসছে এবং তাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বের সেরা পারফরম্যান্সকে তথ্য ও পরিমাপের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা। এই মানদণ্ডে, মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।
রদ্রির গোল্ডেন বল জয় ও বিশ্বকাপের কঠিনতা
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে। এই ম্যাচের পর ফিফার দেওয়া ব্যক্তিগত পুরস্কারে গোল্ডেন বল জেতেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। মেসি পান সিলভার বল এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে পান ব্রোঞ্জ বল। বিশ্বকাপ জয়ের রাতে রদ্রি শুধু শিরোপাই নয়, টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও অর্জন করেন।
রদ্রি এই বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন আসর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে। রদ্রির মতে, এটি ছিল একটি নিখুঁত চিত্রনাট্য যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। রদ্রির এই অর্জন ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, ব্যালন ডি’অর এবং ক্লাব ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পর এসেছে। এর মাধ্যমে তিনি ফ্রানৎস বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার ও জিনেদিন জিদানের পর চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সব শিরোপা জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন।
মেসির পরিসংখ্যান এবং ধারাবাহিকতা
আইএফএফএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী মেসি টুর্নামেন্টে মোট সাতটি ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তিনি ৬২৬ মিনিট মাঠে ছিলেন। এই সময়ে তিনি ৮টি গোল করেছেন এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন, অর্থাৎ সরাসরি ১২টি গোলে অবদান রেখেছেন। আইএফএফএইচএস-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচে তার গড় রেটিং ছিল ৮.৩৩।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, মেসির এই উচ্চ রেটিং কোনো এক-দুটি অসাধারণ ম্যাচের ফল নয়, বরং গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট এবং ফাইনাল পর্যন্ত তার ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ মানের পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। বিশেষ করে নকআউট পর্বে তার প্রভাবকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএফএফএইচএস মনে করে, বিশ্বকাপে একজন ফুটবলারের প্রকৃত মহত্ত্ব নির্ধারিত হয় নকআউট পর্বে দলের জন্য কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন, তার উপর। এই বিবেচনায়, মেসির সামগ্রিক পারফরম্যান্স সূচক টুর্নামেন্টের অন্য সব খেলোয়াড়কে ছাড়িয়ে গেছে।
রদ্রির প্রত্যাবর্তন এবং দলের প্রচেষ্টা
রদ্রির বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে রয়েছে কঠিন সংগ্রামের গল্প। দুই বছর আগেও হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। সেই স্মৃতি মনে করে রদ্রি বলেন, তিনি চান নতুন প্রজন্ম দেখুক, একজন খেলোয়াড় আকাশ ছুঁয়ে আবার নরকে নেমে গিয়েও কীভাবে ফিরে আসতে পারে। এটি প্রতিকূলতাকে জয় করার একটি শিক্ষা।
ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে হারাতে পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন রদ্রি। তিনি বলেন, এটিই স্পেনের জাতীয় দলের রহস্য, তারা কখনো হাল ছাড়ে না এবং শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর তাদের পুরস্কৃত করেন। রদ্রি বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা এখন আনন্দের চূড়ায় এবং এই দলটি অসাধারণ। তিনি আরও বলেন, এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন টুর্নামেন্ট এবং তারা ইতিহাসের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে নিয়ে গড়া দুর্দান্ত একটি আর্জেন্টিনা দলকে হারিয়েছে। রদ্রির মতে, ফাইনালটি কঠিন হলেও স্পেনই জয়ের যোগ্য ছিল, কারণ আর্জেন্টিনা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দুর্দান্ত খেলেছে।
আইএফএফএইচএস তাদের বিবৃতিতে সোমবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
Read Also
Source: bangla.thedailystar.net