ইরানের নকআউটে যাওয়ার প্রথম সমীকরণ মিস, বাকি আছে দুটি লাইফলাইন

ইরানের ১ম সমীকরণ মিস, এখন বাকি মাত্র ২টা লাইফলাইন!

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডে ইরান তাদের প্রথম নকআউট সমীকরণটি হারিয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে ড্র করার পর, গত শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে ইরান। এই ড্রয়ের ফলে টিম মেল্লি ৩ ম্যাচে পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘জি’-এর তৃতীয় স্থানে রয়েছে। তাদের নকআউটে যাওয়ার ভাগ্য এখন অন্য দলগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে জেতার কারণে ইরানের ভক্তদের নকআউটে যাওয়ার প্রথম সমীকরণটি পূরণ হয়নি। সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি ইরানের জন্য ছিল একটি অসমাপ্ত গল্পের মতো। ম্যাচের শুরুতেই মোহাম্মদ সালাহর বাঁ পায়ের কারুকাজ থেকে আসা সুযোগে মাহমুদ সাবেরের শটে গোল খেয়ে বসে ইরান। আলীরেজা বেইরানভান্দের হাত ফসকে বল জালে জড়িয়ে যায়, যা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

তবে ইরান ভেঙে পড়েনি। মেহদি তারেমি দ্রুতই পেনাল্টি আদায় করেন, কিন্তু মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের সেই শট ঠেকিয়ে দেন। এরপর রামিন রেজাইয়ান দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে ১৪ মিনিটেই ১-১ সমতায় ফেরান। এরপর ম্যাচ কিছুটা অগোছালো হয়ে পড়ে, দুই দলই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না। মিশরের নকআউট পর্ব আগেই নিশ্চিত হওয়ায় তারা কিছুটা সংযত হয়ে খেলছিল, আর ইরান ধীরে ধীরে সাহসী হয়ে উঠছিল।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা দেখা যায়। যোগ করা সময়ে তারেমির হেড ক্রসবারে আঘাত করে। এরপর ৯৩ মিনিটে শোজায়ে খলিলজাদেহ বল জালে পাঠান। বক্সের ভেতর বল তার পায়ে এসে পড়লে তিনি এক শটে গোল করেন। স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে এবং খেলোয়াড়রা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এটিই তাদের শেষ ৩২-এ নিয়ে যাবে।

তবে ফুটবল কখনো কখনো নিষ্ঠুর হতে পারে। ভিএআর ডাকে এবং স্ক্রিনে চোখ রাখার পর দেখা যায়, খুব সামান্য ব্যবধানে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। মিলিমিটারের ব্যবধানে গোল বাতিল হওয়ায় ইরান স্বপ্ন ছুঁয়েও বাস্তবে ফিরে আসে। এই ড্রয়ের ফলে মিশর পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে উঠেছে, আর ইরান পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।

ইরানের টিকে থাকার সমীকরণ

আজ ২৮ জুন, রবিবার, ইরানের সামনে টিকে থাকার জন্য দুটি লাইফলাইন বাকি আছে। এই সমীকরণগুলো পূরণ হলে ইরান নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে:

  • আলজেরিয়া বনাম অস্ট্রিয়া: আজ রাত ১২টায় (বাংলাদেশ সময়) এই দুই দল মুখোমুখি হবে। ইরানকে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে যেকোনো এক দলকে জিততেই হবে, অর্থাৎ ম্যাচটি ড্র হওয়া চলবে না। ভালো হয় যদি অস্ট্রিয়া আলজেরিয়াকে হারিয়ে দেয়।
  • কঙ্গো বনাম উজবেকিস্তান: কঙ্গো যেন কোনোভাবেই উজবেকিস্তানকে হারাতে না পারে। অর্থাৎ উজবেকিস্তান জিতলে বা ম্যাচ ড্র হলে ইরানের আশা বেঁচে থাকবে।

নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করতে ইরানকে এই ম্যাচগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে হবে। ফুটবলে এমন অপেক্ষা খুব কমই আসে, এবং এই অপেক্ষার ভেতরেই একটি বড় যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে। কারণ, তারা জানে, তাদের স্বপ্ন কোনো বড় ভুলে নয়, শুধু মিলিমিটারের এক সিদ্ধান্তে ভেঙেছে।

নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্রয়ের পর এবং বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ইরান। বেলজিয়ামের সমান পয়েন্ট নিয়ে, সমান গোল ব্যবধান হওয়ায়, বেশি গোল করার সুবাদে তারা দুইয়ে ছিল। মিশরের বিপক্ষে জিতলেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হতো ইরানের। নিজেদের ম্যাচে জিতলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হতে পারত ইরান, যদি অন্য ম্যাচে বেলজিয়াম পয়েন্ট হারাত।

বেলজিয়াম জিতলেও গ্রুপ সেরা হতে পারত ইরান, তবে সেজন্য তাদের জয়ের ব্যবধান বেলজিয়ামের চেয়ে বড় হতে হতো। দুই দলের জয়ের ব্যবধানও সমান হলে তখন দেখা হতো কারা বেশি গোল করেছে। নিজেদের ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হতে পারত ইরান, যদি অন্য ম্যাচও একইরকম স্কোরলাইনে শেষ হতো। তখন ইরান ও বেলজিয়ামের পয়েন্ট হতো সমান , এখনকার মতো গোল ব্যবধানও থাকত সমান, বর্তমানে গোল একটি বেশি করায় এগিয়ে আছে ইরান।

উপরের কোনো শর্ত পূরণ না হলে, গ্রুপের তিন নম্বর দল হয়ে সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরের ধাপে ওঠার আশায় থাকত ইরান। মিশর, বেলজিয়াম এবং নিউ জিল্যান্ডও তাদের নিজ নিজ সমীকরণ নিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার চেষ্টা করছে। নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্রয়ের পর, মিশরের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে রয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

নিউ জিল্যান্ড নিজেদের ম্যাচে জিতলেই গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে উঠত, যদি মিশর অন্য ম্যাচে হেরে না যেত। আর নিজেদের জিতলে এবং মিশর হেরে গেলে, পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হতো তারা; তবে সেক্ষেত্রে সেরা আটটি তৃতীয় দলের একটি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যেত ওশেনিয়া অঞ্চলের দলটির।

Read Also

Source: bd-pratidin.com