স্পেন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে, যা তাদের ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই লামিনে ইয়ামাল বল নিয়ে বক্সে ঢুকে দানি ওলমোর দিকে বাড়িয়েছিলেন, যা আবার তাঁর কাছেই ফিরে আসে। তাঁর শট লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে, কিন্তু এমিলিয়ানো মার্তিনেজ তা ঠেকিয়ে দেন।
ম্যাচের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস হেড দিয়ে বলটি পেছনে ঠেলে দেন, এবং ফেরান তোরেস সেই বলে পা লাগিয়ে জালে জড়ান। এই গোলটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
বাতিল হওয়া গোল এবং বিতর্ক
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামস একটি গোল করেছিলেন, যা রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ বাতিল করে দেন। এই গোলের আগে মিকেল মেরিনো আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির ওপর ফাউল করেছিলেন বলে রেফারি সিদ্ধান্ত দেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায়, মেরিনো ওতামেন্দিকে সামান্য স্পর্শ করেছিলেন।
স্পেনের খেলোয়াড়রা দাবি করেন যে, স্পর্শটি খুবই সামান্য ছিল এবং ওতামেন্দি এটিকে বাড়িয়ে দেখিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে গোল বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না। রেফারির এই সিদ্ধান্তে স্প্যানিশ ফুটবলাররা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে ফেরান তোরেস আরও একটি গোল করেন, যা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে একা পেয়ে তোরেস বল জালে জড়িয়েছিলেন। এই দুটি গোল বাতিল হওয়ার পরও স্পেন শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে জয় লাভ করে।
আর্জেন্টিনার প্রতিরোধ
আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে শারীরিক লড়াইয়ে নির্মম হলেও ছন্দে পিছিয়ে ছিল। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং রদ্রিগো দি পল বলের চেয়ে ফাউল করা নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখার পর চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লে নিকোলাস ওতামেন্দি মাঠে নামেন।
লিওনেল মেসি এই ম্যাচে নিজের সেরা ফর্মে ছিলেন না। প্রথম ২০ মিনিটে তাঁর পায়ে মাত্র দুবার বল এসেছিল। তাঁর শারীরিক ভাষায় পুরোনো তীক্ষ্ণতা ছিল না, বরং ক্লান্তির ছাপ ছিল।
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এই ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তিনি তোরেসের হেড, লাপোর্তের হেডার, রদ্রির শট এবং উইলিয়ামসের আক্রমণসহ একের পর এক শট ঠেকিয়ে দেন। ৯০ মিনিট শেষে তাঁর সেভের সংখ্যা দশ ছিল, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে একটি রেকর্ড।
যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ কুবারসিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন, যার ফলে আর্জেন্টিনা ১০ জনে পরিণত হয়। এরপরও মার্তিনেজ ইয়ামালের ফ্রি-কিক বাঁচিয়ে আর্জেন্টিনাকে খেলায় টিকিয়ে রেখেছিলেন। অতিরিক্ত সময়েও উইলিয়ামসের একটি হেড তিনি ঠেকিয়ে দেন।
রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ যখন শেষ বাঁশি বাজান, তখন স্পেনের বেঞ্চের খেলোয়াড়রা মাঠে ছুটে আসেন। স্পেন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো।
এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা গোলে একটিও শট নিতে পারেনি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল।
Read Also
Source: prothomalo.com