রোনাল্ডোর মন্তব্য এবং দলের পরিস্থিতি
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে বিশ্বকাপের আসল লড়াই নকআউট পর্ব থেকেই শুরু হবে। গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর তিনি এই কথা জানান। তার মতে, এই কঠিন লড়াইয়ে শক্তিশালী দলগুলোর মুখোমুখি হতে হলেও পর্তুগালের ড্রেসিংরুম মানসিকভাবে শক্তিশালী আছে।
যদিও রোনাল্ডোকে নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তিনি যে ম্যাচে দুটি গোল করেছেন, সেই ম্যাচগুলোতে পর্তুগাল জয়লাভ করেছে। তারপরও লিওনেল মেসির সমর্থকরা রোনাল্ডোকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে ছাড়েননি। এই কিংবদন্তি অবশ্য এসব বিষয়ে বিশেষ পাত্তা দেন না। তিনি মনে করেন, বিশ্বকাপে এখন আসল খেলা শুরুই হয়নি, বরং রাউন্ড অব ৩২ থেকেই আসল বিশ্বকাপ শুরু হতে চলেছে।
পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। ক্রোয়েশিয়া গত দুটি বিশ্বকাপে ভালো অবস্থানে শেষ করেছে। ২০১৮ সালে তারা রানার্সআপ হয়েছিল এবং গত বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে ছিল। লুকা মদ্রিচদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া সহজ হবে না, এটা ফুটবল বিশ্ব জানে।
পর্তুগালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এবং সমালোচনা
গত ২৮ জুন মায়ামি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘কে’-এর ম্যাচে পর্তুগাল কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে। ব্রুনো ফের্নান্দেসরা সুযোগ তৈরি করলেও ডেডলক ভাঙতে ব্যর্থ হন। পর্তুগাল বল দখলে রাখলেও কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পর্তুগাল ১৩টি শট নেয়, যেখানে কলম্বিয়া ২৪টি শট নেয়, যার মধ্যে ছয়টি গোলমুখী ছিল। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ডেভিনসন স্যাঞ্চেসের একটি হেডার অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যাওয়ায় কলম্বিয়ার নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হয়।
পর্তুগালের প্রশংসিত মিডফিল্ড ত্রয়ী—ব্রুনো ফের্নান্দেস, জোয়াও নেভেস এবং ভিতিনহা-র পারফরম্যান্স এখন আতসকাচের নিচে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ধারাবাহিকভাবে সুযোগ তৈরি করতে না পারায় তাদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্রুনোর ইউরোপের অন্যতম সেরা গোলমুখী পাস বাড়ানোর কীর্তি থাকলেও, তাকে ভালো বল বাড়াতে দেখা যায়নি। নকআউট পর্বে যাওয়ার আগে পর্তুগালের পারফরম্যান্স নিয়ে বহু আলোচনা চলছে। ব্যক্তিগত প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও, দল হিসেবে তারা এখনও পিছিয়ে আছে।
রোনাল্ডোর এক সময়ের সতীর্থ রিকার্ডো কোয়ারেসমাও মনে করেন, দলের আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। তার মতে, কোনো ফুটবলারকেই খুশি মনে হচ্ছে না। কোয়ারেসমা বলেছেন, “দলের মধ্যে আনন্দের অভাব, খুশির অভাব, ঐক্যের অভাব।” গ্রুপ পর্বে দলের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘ওদের ক্লান্ত এবং লক্ষ্যহীন দেখাচ্ছিল।’’
সমর্থন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
রোনাল্ডোর প্রতি ধেয়ে আসা সমালোচনার মুখে ঢালের মতো দাঁড়িয়েছেন তার একদা সহযোদ্ধা, ডিফেন্ডার ব্রুনো আলভেস। তিনি অধিনায়কের প্রতি পূর্ণ ভরসা জানিয়ে বলেছেন, “যে কোনো অবস্থায় তোমার উপর আমাদের ভরসা আছে ক্রিশ্চিয়ানো। পর্তুগাল ড্রেসিংরুমের উচিত, তাদের অধিনায়কের সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। সামনে ক্রোয়েশিয়া থাকলেও, তাতে কিছু এসে যায় না।”
কোচ রবার্তো মার্টিনেসও এখনও রোনাল্ডোর সামনে বুক আগলে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি চেষ্টা করছেন, তার দলের সেরা অস্ত্রটি যদি শেষবারের মতো মিসাইলের গতিতে প্রতিপক্ষের বক্সে আছড়ে পড়তে পারে। কলম্বিয়া ম্যাচের পর পর্তুগাল কোচ বলছিলেন, ‘‘যেভাবে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডাররা রোনাল্ডোর সামনে একাধিক ডিফেন্ডার দিয়ে দেওয়াল তুলছিল, রোনাল্ডোর জন্য জায়গা পাওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া ওর কৃতিত্ব শুধু গোলের মধ্যেই খুঁজলে হবে না। দলে রোনাল্ডোর উপস্থিতিও আমাদের জন্য বড় ফ্যাক্টর।’’
আমেরিকা বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর প্রতি বিশ্বফুটবল সমর্থকদের ভালোবাসার ওঠানামা অনেকটা শেয়ার বাজারের মতো। সমর্থনের সেনসেক্স এই ঊর্ধ্বমুখী তো পরক্ষণেই আবার সেটা নিম্নমুখী। রোনাল্ডো সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন যে, ‘গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে। নকআউট পর্যায়ে শুরু হবে আসল লড়াই। এই কঠিন লড়াইয়ে শক্তিশালী দলগুলির মুখে পড়লেও ড্রেসিংরুম মানসিকভাবে শক্ত রয়েছে।’
পর্তুগালের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্রোয়েশিয়াকে হারানো এবং বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখা।

Read Also
Source: aaroananda.com