মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্সের ব্যাপক পরিবর্তন

৩ মিনিটেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দিলেন রাইস

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রেক্ষাপট

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনআর্জেন্টিনার কাছে হেরে ফ্রান্সইংল্যান্ড উভয় দলই ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন থেকে ছিটকে গেছে। এই হতাশার পর শনিবার (১৮ জুলাই) মায়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দল দুটি। উভয় দলের কোচই এই ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে ফাইনাল খেলার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও এই ম্যাচ খেলার অনীহা প্রকাশ করেছেন। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম এবং ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল দুজনেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে তাদের দলগুলো এই ম্যাচ খেলতে চায় না, কারণ তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল।

টুখেল এই ম্যাচটিকে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে মানসিক ও শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ শক্তি উজাড় করে দেওয়ার পর খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত রাখা প্রায় অসম্ভব। দেশম অবশ্য দেশের স্বার্থে এই ম্যাচ জেতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, এটিকে কোনো প্রীতি ম্যাচ নয় বরং বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি খেলোয়াড় এবং স্টাফদের এই শেষ লক্ষ্যে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতার কথা বলেছেন।

দলের একাদশে পরিবর্তন

উভয় দলই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের জন্য তাদের একাদশে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। ইংল্যান্ড দলে জর্ডান পিকফোর্ড এবং হ্যারি কেইনকে বেঞ্চে রাখা হয়েছে। টমাস টুখেল এই ম্যাচে ডিন হেন্ডারসন, কোয়ানসাহ, কনসা, গুয়েহি, স্পেন্স, রাইস, সাকা, এজে, রজার্স, রাশফোর্ড এবং টোনিকে নিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন। ফ্রান্সও তাদের একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনেছে। উসমান দেম্বেলে, যিনি বিশ্বকাপে দারুণ ফর্মে ছিলেন, তাকে এই ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। দেশম এই পরিবর্তনগুলোকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কারণ বিশ্বকাপ শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ক্লান্ত খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া এবং রোটেশন পদ্ধতি অনুসরণ করাকে তিনি সবচেয়ে ভালো উপায় মনে করেন।

দেম্বেলের বাদ পড়ার খবরে অনেক সমর্থক অবাক হলেও, তার কোনো চোটের খবর নেই। ফ্রান্সের একাদশে মেনিয়ঁ, গুস্তো, কোনাতে, ল্যাক্রোয়া, থিও এর্নান্দেজ, জাইরে এমেরি, রাবিও, ওলিসে, চেরকি, দুয়ে এবং এমবাপ্পেকে দেখা গেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে শুরুর একাদশে আছেন, কারণ তিনি এখনো গোল্ডেন বুটের দৌড়ে টিকে আছেন। জুলস কুন্দের মতো তারকা ডিফেন্ডারকেও ফ্রান্স বিশ্রাম দিচ্ছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধের ঘটনা

ম্যাচের শুরুতেই ইংল্যান্ড এগিয়ে যায়। খেলার মিনিটেই রাইস ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। এরপর ১৭ মিনিটে ইংল্যান্ড কর্নার থেকে আরও একটি গোল করে। রাইসের কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে এজরি কনসা বল জালে জড়ান, যা ফ্রান্স রক্ষণকে পরাস্ত করে। এর ফলে ১৭ মিনিটের মধ্যেই ফ্রান্স গোল হজম করে।

ইংল্যান্ড তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখে এবং ৩৭ মিনিটে বুকায়ো সাকার গোলে ফ্রান্স তৃতীয় গোল হজম করে। রাশফোর্ডের শুরুর শট মাইক মেনিয়ঁ ঠেকিয়ে দিলেও, সাকা ফিরতি সুযোগে গোল করেন। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ইংল্যান্ড চতুর্থ গোল করে। মাঝমাঠ থেকে এজের পাস বুকায়ো সাকার পায়ে আসে এবং তিনি বল জালে জড়িয়ে দেন। এর ফলে প্রথমার্ধেই ইংল্যান্ড ৪-০ গোলে এগিয়ে যায়। ফ্রান্সের রক্ষণের দুর্বলতা এই গোলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

প্রথমার্ধে ফ্রান্সের জালে গোল হজম করার পর বিরতির পর কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। বক্সের বাইরে থেকে মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বল এমবাপ্পের পায়ে আসে এবং তিনি প্রথম ছোঁয়াতেই ইংল্যান্ডের জালে বল জড়িয়ে দেন। বুকায়ো সাকা একবার বল জালে জড়িয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম এই ম্যাচের আগে বলেছিলেন যে, ইংল্যান্ড এই ম্যাচটি খেলতে চায় না, এবং ফ্রান্সও চায় না।

তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না ইংল্যান্ড-ফ্রান্স!
তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে চায় না ইংল্যান্ড-ফ্রান্স! ছবি: এএফপি Credit: rtvonline.com

Read Also

Source: jugantor.com