মেক্সিকোর মন্তেরেইতে অনুষ্ঠিত এক নাটকীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে উঠেছে মরক্কো। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে এই ফলাফল আসে। এই জয়ের ফলে মরক্কো আগামী শনিবার হিউস্টনে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কানাডার মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের ৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে গেলেও, যোগ করা সময়ের ৯১ মিনিটে ইসা দিওপ মরক্কোর হয়ে গোল শোধ করেন। অতিরিক্ত সময়ের দুই অর্ধেও কোনো দল গোল করতে না পারায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। মরক্কো এই ম্যাচে ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল এবং ১১টি শটের মধ্যে ৫টি পোস্টে রাখতে সক্ষম হয়েছিল, যেখানে ডাচরা ৬টি শটের মধ্যে ২টি পোস্টে রাখতে পেরেছিল।
টাইব্রেকারে নাটকীয়তা
টাইব্রেকারে উভয় দলই পেনাল্টি মিসের মহড়া দেয়। নেদারল্যান্ডস তিনটি শট মিস করে। তাদের দ্বিতীয় শট জাস্টিন ক্লুইভার্ট পোস্টে মারেন, চতুর্থ শট কুইন্টেন টিম্বারও পোস্টে মারেন। ক্রিসেনসিও সামারভিলের পঞ্চম শটটি মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু ঠেকিয়ে দেন।
অন্যদিকে, মরক্কো দুটি শট মিস করে। তাদের প্রথম শটটি মিডফিল্ডার নিল এল আয়নাউয়ি পোস্টে মারেন এবং চতুর্থ শট আশরাফ হাকিমিও পোস্টে মারেন। শেষ পর্যন্ত, ইসমায়েল সাইবারির পঞ্চম শটটি জালে জড়িয়ে মরক্কোকে জয় এনে দেয়।
ডাচদের বিদায় এবং কোচের কৌশল
এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডস। এর আগে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরেছিল এবং চার বছর আগে কাতারে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই টাইব্রেকারে বিদায় নিয়েছিল ডাচরা।
ম্যাচের আগে ডাচ কোচ রোনাল্ড কোমান মরক্কোকে নিয়ে সতর্ক ছিলেন এবং প্রতিপক্ষের গোল করার সক্ষমতার প্রশংসা করেছিলেন। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে কোমানের অধিনায়কত্বে ডাচরা জয় পেয়েছিল, যা তার জন্য একটি মধুর স্মৃতি। তবে এই ম্যাচে তার কৌশল মরক্কোর অদম্য স্পৃহার কাছে পরাজিত হয়।
নেদারল্যান্ডসে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মরোক্কান বসবাস করেন, যার প্রভাব মরক্কো দলেও দেখা যায়। সোফিয়ান আমরাবাত, নুসায়ের মাজরাউই এবং আনাস সালেহ এদ্দিনসহ মরক্কোর বর্তমান স্কোয়াডের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নেদারল্যান্ডসে বেড়ে উঠেছেন এবং ফুটবল শিখেছেন। এই সম্পর্কের কারণে ম্যাচে নেদারল্যান্ডসপ্রবাসী মরোক্কান সমর্থকদের উপস্থিতি ডাচদের কাছে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ডাচ পুলিশ ম্যাচের আগে সমর্থকদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে মরক্কো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে তাদের স্থান নিশ্চিত করল।

Read Also
Source: prothomalo.com