ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসের তিনটি ভিন্ন স্থানে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে হাজারো শিক্ষার্থী সম্মিলিতভাবে খেলা উপভোগ করতে পারবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে জোহা চত্বরে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু)-এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এবং ছাত্রদলের উদ্যোগে রাবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। খেলা শুরুর আগেই দর্শকদের জন্য প্রয়োজনীয় আসন, সাউন্ড সিস্টেম এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে খেলা দেখানোর অনুমতি নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও, রাকসুর সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাইদ নুন নিশ্চিত করেছেন যে স্টেডিয়ামে খেলা দেখানোর অনুমতি পাওয়া গেছে।
এর আগে, ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খেলা দেখানোর ঘোষণা দিয়েছিল। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জোহা চত্বরে এলইডি স্ক্রিনে খেলা দেখানোর ঘোষণা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি স্থানে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখানো হবে। রাকসু স্টেডিয়ামে, ছাত্রদল শহীদ মিনারে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জোহা চত্বর হয়ে প্যারিস রোডে খেলা দেখানোর আয়োজন করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাসে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। গেটে চেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড সাথে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে। বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গে জেলাজুড়ে ফাইনাল প্রদর্শনের উদ্যোগ
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও বিশ্বকাপ ফাইনাল প্রদর্শনে একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় জায়ান্ট স্ক্রিনে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ফাইনাল ম্যাচ সরাসরি দেখানো হবে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হয়েছে। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে এই তথ্য জানান।
রাজ্য সরকারের যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রাজেশ পাণ্ডের দপ্তর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা প্রতিটি জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় রাত সাড়ে বারোটা থেকে জায়ান্ট স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল সরাসরি সম্প্রচার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই আয়োজনের জন্য প্রতিটি জেলাকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফুটবল রাজ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা এবং এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মানুষ যাতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার জায়ান্ট স্ক্রিনে খেলা দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই লাইভ স্ক্রিনিং হবে এবং এর জন্য রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে। আগে থেকেই এলাকাগুলোতে প্রচার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আড়াই মাসের মধ্যেই বাংলার ফুটবলের প্রসারে এই উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল সিনিয়র দলে বাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা কম। আইএসএলে খেলা ক্লাবগুলোতেও বাঙালি ফুটবলারের অভাব দেখা যায়। একসময় জেলাগুলো ছিল ফুটবলের আঁতুড়ঘর, যেখানে সুব্রত ভট্টাচার্য, সুরজিৎ সেনগুপ্ত, সুভাষ ভৌমিকের মতো খেলোয়াড়রা উঠে এসেছিলেন। বর্তমানে জেলা থেকে ফুটবলার উঠে আসার তেমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই এবং জেলা লিগগুলো পেশাদারিত্বের অভাবে ভুগছে। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জেলা ফুটবলে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, এবং এটি তার প্রথম পদক্ষেপগুলির মধ্যে একটি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার ছেলেমেয়েদের ফুটবলের প্রতি আকর্ষণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
Read Also
Source: aajkaal.in