দীর্ঘ ৩২ মাস পর ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফিরেছেন তারকা ফুটবলার নেইমার। স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল ম্যাচে তিনি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন। চোট থেকে সেরে ওঠার পর বিশ্বকাপ মঞ্চে এটি ছিল তার প্রথম অংশগ্রহণ।
নেইমারকে প্রথম দুই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নামানো হয়নি। তবে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগেই জানিয়েছিলেন যে স্কটল্যান্ড ম্যাচে নেইমার খেলবেন। যদিও ভক্তরা তাকে শুরুর একাদশে দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়েছিলেন।
নেইমার ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মাথেউস কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। মাথেউস কুনহা ব্রাজিলর হয়ে তৃতীয় গোলটি করেছিলেন।
চোট থেকে প্রত্যাবর্তন
নেইমারর জন্য এই বিশ্বকাপের শুরুটা সহজ ছিল না। সান্তোসর হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে তার ডান পায়ের কাফে চোট লাগে। এই চোটের কারণে তিনি বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলতে পারেননি। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে জয়ের সময় তিনি মাঠের বাইরে থেকেই সতীর্থদের উৎসাহ দিয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলর হয়ে ম্যাচ খেলতে গিয়ে গুরুতর চোট পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। সর্বশেষ গত ১৭ মে সান্তোসর হয়ে খেলতে গিয়ে তিনি আবার চোট পেয়েছিলেন।
পুনর্বাসনের পুরো সময়টা নেইমারর জন্য কঠিন ছিল। নিউ জার্সিতে দলের ক্যাম্পে থেকে তিনি দিনে দুইবার অনুশীলন করেছেন। মাঠের অনুশীলনের পাশাপাশি জিমেও দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে ফিরে আসা।

নেইমারর বাবা নেইমার সিনিয়র স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে তার ছেলের জন্য একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে নেইমারর জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি দেখানো হয়। ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, ‘তাহলে দৌড়াও, দৌড়াও। এমনভাবে দৌড়াও যেন এটি তোমার জীবনের শেষ দিন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ পর্যন্ত আমাদের সাহায্য করেছেন সৃষ্টিকর্তা। সময় এসে গেছে। আমরা একসঙ্গে এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করব। শুভকামনা ছেলে! শুভকামনা ব্রাজিল। ঈশ্বর তোমাদের আশীর্বাদ করুন এবং রক্ষা করুন।’
দলের বর্তমান অবস্থা
ব্রাজিল দল বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কিছুটা চাপে ছিল। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই দলটি অভ্যন্তরীণভাবে আস্থার সংকট এবং নেইমারকে ঘিরে বিতর্কে জর্জরিত ছিল।
ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসর হয়ে কোরিতিবার বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারর ডান পায়ের কাফে চোট লাগে। এই চোট তাকে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে জয়ের সময়ও তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্কটল্যান্ড ম্যাচে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নেইমারকে সীমিত সময়ের জন্য মাঠে নামানো হতে পারে। কার্লো আনচেলত্তিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নেইমার খেলতে প্রস্তুত।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে চোটের কারণে রাফিনহা খেলছেন না। নেইমারকে শুরুর একাদশে দেখতে না পেয়ে সমর্থকরা কিছুটা শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ম্যাচের ৭ মিনিটেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি চলমান বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে গোল করেছেন এবং এখন পর্যন্ত তিন গোল করেছেন।
গত কয়েক দিনের অনুশীলনে নেইমার তার পুরোনো ছন্দের আভাস দিয়েছেন। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত অনুশীলনের প্রথম অংশে তার গতি, তীব্রতা এবং আত্মবিশ্বাস দেখে কোচিং স্টাফরা সন্তুষ্ট হয়েছেন।

কার্লো আনচেলত্তি বলেছেন, ‘সে প্রস্তুত। সে খুব ভালো অনুশীলন করেছে।’
ব্রাজিল দল ১৮ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে কনমেবল অঞ্চলে পঞ্চম হয়ে বিশ্বকাপে এসেছিল। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ জয়ও সমর্থকদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
ব্রাজিলর বিশ্লেষক মাউরো সেজার পেরেইরা তীব্র সমালোচনা করেছেন, তার মতে যারা ফুটবল বোঝেন, তারা এই দলের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। পাওলো ভিনিসিয়ুস কোয়েলহোর মতেও দল এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি।
নেইমারকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা এখনো বিশ্বকাপে এক মিনিটও মাঠে নামেননি। কাফ ইনজুরির কারণে তাকে দলে নেওয়া নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। টিভি বিশ্লেষক নেতো সরাসরি নেইমারর ফিটনেস এবং মনোযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আক্রমণভাগেও সমস্যা রয়েছে। রাফিনহা চোটের কারণে ছিটকে গেছেন এবং রদ্রিগো পুরো টুর্নামেন্টেই নেই। ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রর সঙ্গে আক্রমণে মাথেউস কুনহা দায়িত্ব নিতে পারেন।
মাঝমাঠে কাসেমিরোর গতি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। যদিও শেষ ম্যাচে তিনি দৌড়ে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবু দল সমাধান খুঁজছে। গ্রুপের জটিল সমীকরণে ব্রাজিলর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পয়েন্ট হারালে নকআউটে কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে। নেইমার ৩২ মাস পর ব্রাজিলর হয়ে মাঠে নেমেছেন।
Source: jagonews24.com