২০২৬ সালের ১৭ মার্চ, ইরান সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক সিস্টেম, যা ইরানে উন্নত হয়েছে এবং এর পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার।
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বিশেষত্ব হলো এটি কঠিন জ্বালানী ব্যবহার করে, যা পুরনো তরল জ্বালানী ডিজাইনের তুলনায় দ্রুত উৎক্ষেপণের সুবিধা দেয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১৮ মিটার লম্বা এবং এর উৎক্ষেপণ ওজন ২৩,০০০ কিলোগ্রামের বেশি। সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি উড়ানের সময় তার গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম, যা একে ‘নাচনো ক্ষেপণাস্ত্র’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
সংখ্যাগুলি
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ১৩ গুণ শব্দের গতির সমান, যা এটি দ্রুত এবং কার্যকরী করে তোলে। এটি প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি পে-লোড বহন করতে সক্ষম। ইরান দাবি করেছে যে, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রটি সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয়েছে।
সেজ্জিল-২ ভেরিয়েন্টটি ইরানের সামরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের মোবাইল সিস্টেমের কারণে এটি কৌশলগতভাবে আরও কার্যকরী হয়ে উঠেছে। ইরান ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন শুরু করে এবং ২০০৮ সালে এর প্রথম সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
ইরানের সামরিক বাহিনী, বিশেষ করে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি), সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার একটি পরিবর্তন নির্দেশ করে, যেখানে পূর্বে প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত সিস্টেমগুলো এখন সক্রিয়ভাবে সংঘাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর, প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার ইরানের সামরিক কৌশলের একটি নতুন দিক নির্দেশ করে। তবে, এটি একটি সীমিত উত্তেজনা নাকি একটি স্থায়ী পরিবর্তন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে যে, সেজ্জিল-৩ নামে একটি আরও উন্নত সংস্করণ উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়। সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের ভবিষ্যৎ ব্যবহারের ফ্রিকোয়েন্সি কেমন হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।



