বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকটের সম্ভাবনা
সম্প্রতি, ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির উপর নির্ভরশীল, যেখানে প্রায় ৮৬ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই প্রায় অর্ধেক শ্রমিক কর্মরত আছেন। এই শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমানে, জ্বালানির দাম বেড়ে ১১৯ ডলার প্রতি ব্যারেল হয়েছে, যা গত বছরের ৭২ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশ প্রায় সম্পূর্ণরূপে আমদানি করা জ্বালানির উপর নির্ভরশীল, ফলে দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্য প্রবাহ বিঘ্নিত হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে। বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি মার্চ ২০২৩ থেকে ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে, যা খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে ঘটছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক জ্বালানির সরবরাহ সীমা পাঁচ লিটারে বাড়িয়েছে, যা আগে ছিল দুই লিটার। এই পদক্ষেপটি জ্বালানির সংকট মোকাবেলায় সরকারের একটি প্রচেষ্টা।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেছেন, “মূল প্রশ্ন হচ্ছে, এই সংকটের প্রভাব কতটা এবং এটি কতদিন স্থায়ী হবে। যতদিন এটি চলবে, তত বেশি ক্ষতি হবে।” তিনি আরও বলেন, “যদি জ্বালানির সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, তাহলে বাস্তব অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প এবং পরিষেবাগুলোর উপর চাপ পড়বে।”
সরকার ইতিমধ্যে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলার জন্য একটি জরুরি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। তবে, যুদ্ধের সঠিক সময়কাল এবং তীব্রতা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও নিশ্চিত নয়।



