যা পর্যবেক্ষকরা বলছেন
“আমার প্রিয় সহকর্মীদের কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড আমাদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে,” বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই মন্তব্যটি ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এসমাইল খাতিবের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এসেছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন সংকট সৃষ্টি করেছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, খাতিবের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ইরানের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ তিনি দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
খাতিবের হত্যাকাণ্ডটি মাত্র দুই দিনের মধ্যে ইরানের তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার হত্যার ঘটনা। এই ঘটনার পর ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ দাবি করেছেন যে, খাতিবকে হত্যা করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পর্কে তথ্যের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে খাতিবও অন্তর্ভুক্ত।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে, খাতিব ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, যিনি কুমের প্রভাবশালী ধর্মীয় সেমিনারিতে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্লেষক মোহাম্মদ ভল বলেন, “তিনি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ধর্মীয়, আদর্শিক এবং গোয়েন্দা পরিবেশে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।”
ইসরাইলের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই হত্যাকাণ্ডটি তাদের জন্য একটি সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষক নিদা ইব্রাহিম মন্তব্য করেছেন, “এটি ইরানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের আরেকটি সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
এসমাইল খাতিবের হত্যাকাণ্ডের পর ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে তেহরানে আলী লারিজানি এবং ঘোলামরেজা সোলেইমানির জন্য একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিস্থিতি ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে।



