২০২৬ সালের ৩১ মার্চ, ইরানে যুদ্ধের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে তেহরান এবং ইসফাহান শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই হামলাগুলি গত ৩২ দিন ধরে চলমান, এবং মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের নৌবাহিনীর সম্পদ লক্ষ্য করে ১৫০টি জাহাজ ধ্বংস করেছে।
মার্কো রুবিও, মার্কিন সিনেটর, মন্তব্য করেছেন যে, “আমেরিকার যুদ্ধের লক্ষ্য ‘সপ্তাহের মধ্যে, মাসের মধ্যে নয়’ অর্জিত হবে।” অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল রপ্তানি কেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন যদি শীঘ্রই একটি চুক্তি না হয়।
ইরানের সাম্প্রতিক আক্রমণের একটি নতুন তরঙ্গ শুরু হয়েছে, যা দেশের নৌবাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। এটি ছিল ৮৭তম আক্রমণ এক মাসের মধ্যে। এই আক্রমণের ফলে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের নৌ কমান্ডার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যিনি একটি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইরান একটি সরাসরি আক্রমণ চালিয়েছে কুয়েতের আল-সালমি তেলের ট্যাংকারের উপর, যা দুবাই বন্দরে অবস্থান করছিল। সৌদি আরব এই সময়ে রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলে লক্ষ্য করে আটটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করেছে।
কাতারের উপর ইরানের আক্রমণগুলি দুই দেশের সম্পর্কের উপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব এবং মিসরের সাথে চার-পক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে যুদ্ধ শেষ করার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। গ্রুপ অফ সেভেন অর্থনীতি এবং অর্থ মন্ত্রীরা শক্তি বাজার স্থিতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নাটো বাহিনী তুরস্কের দিকে ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করেছে। এই পরিস্থিতি ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে যুদ্ধের শেষের সঠিক সময়সীমা এখনও অস্বচ্ছ। বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।



