বাংলাদেশের আর্থিক খাতে ঋণ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে এসএস স্টীল লিমিটেডের চেয়ারম্যান জাভেদ অপগেনহাফেনের বানানির বাড়ি জব্দ করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এই ঘটনা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ঘটেছে, যা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
ইস্টার্ন ব্যাংক জানিয়েছে যে, তারা জাভেদ অপগেনহাফেনের বাড়িটি জব্দ করেছে ১১২.৪১ কোটি টাকার ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য। এই ঋণের পরিমাণ এসএস স্টীলের মোট ঋণের ১,৯৬৭ কোটি টাকার একটি অংশ। ব্যাংকটি আগে এই ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য জামানত সম্পত্তির নিলাম করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু নিলামে ক্রেতা পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালের ১৬ মার্চ আদালত এই বাড়িটি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন বাড়িটির উপর ব্যাংকের আইনগত স্বার্থ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান, যেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। ইস্টার্ন ব্যাংক একটি সতর্কতা বিজ্ঞপ্তি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ করেছে, যেখানে বাড়িটির সাথে সম্পর্কিত যে কোনো লেনদেনকে আদালতের অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসএস স্টীলের ঋণ গত বছরের তুলনায় ১১৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কোম্পানির আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় সংকেত। তবে, একই সময়ে কোম্পানিটি ৫ কোটি টাকার নিট মুনাফা ঘোষণা করেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “যেহেতু ঋণগ্রহীতা ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই আদালতের নির্দেশ অনুসারে চেয়ারম্যানের সম্পত্তি জব্দ করতে ব্যাংকটি পদক্ষেপ নিয়েছে।”
এসএস স্টীলের শেয়ারগুলি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতার কারণে জেড ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতি ব্যাংকগুলোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছে, কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর ঋণ মোকাবেলা করতে বাধ্য হচ্ছে।
সংখ্যাগুলি
এসএস স্টীলের মোট ঋণ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১,৯৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটির এই বাড়িটি জব্দ করার ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এখন দেখার বিষয় হলো, এই ঘটনাটি ব্যাংকিং খাতের ঋণ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে এবং অন্যান্য ব্যাংকগুলো এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে কতটা প্রস্তুত।



