উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বিভিন্ন মিসাইল সিস্টেমের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ, উত্তর কোরিয়া ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাগরে নিক্ষেপ করেছে। এই নিক্ষেপগুলি মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার ফ্রিডম শিল্ড সামরিক মহড়ার সময় ঘটে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, মিসাইলগুলি প্রায় ১:২৪ পিএম-এ শনাক্ত হয়।
মিসাইলগুলি কয়েকশো কিলোমিটার দূরত্বে ভ্রমণ করে সাগরে পড়ে যায়। এই মিসাইলগুলি প্রায় ৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায় এবং ৩৪০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্বে ভ্রমণ করে। কিম জং-উন এই সময়ে একাধিক রকেট লঞ্চার সিস্টেমের লাইভ-ফায়ার পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ করেন।
সংখ্যাগুলি
উত্তর কোরিয়ার KN-25 মিসাইল সিস্টেমের ব্যাস ৬০০ মিলিমিটার এবং এর কার্যকরী পরিসীমা প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার। এই মিসাইল সিস্টেমটি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং একাধিক রকেট লঞ্চারের একটি হাইব্রিড। কিম জং-উন বলেন, “যদি এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তবে প্রতিপক্ষের সামরিক অবকাঠামো কখনোই টিকে থাকতে পারবে না।”
বিশ্লেষক হং মিন মন্তব্য করেন, “নিক্ষেপের প্যাটার্নটি যৌথ মহড়ার সময়সূচির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বিত।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে যে, এই মিসাইল নিক্ষেপগুলি মার্কিন কর্মী বা ভূখণ্ডের জন্য তাত্ক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করে না। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানান, “বিমান বা জাহাজের জন্য কোনও ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।”
উত্তর কোরিয়ার মিসাইল নিক্ষেপগুলি প্রায়শই মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে ঘটে, যা উত্তর কোরিয়া আক্রমণের মহড়া হিসেবে দেখে। ২০০৬ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক এবং মিসাইল প্রোগ্রামের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে।
এখন, পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে উত্তর কোরিয়ার এই সাম্প্রতিক কার্যকলাপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করবে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে। তবে, বিস্তারিত এখনও নিশ্চিত নয়।



