কেন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম ব্যবহার হচ্ছে না?
ভুয়াপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম কেন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে জানা যায়, ২০১৭ সালে ৪১ লাখ টাকায় নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি ২০১৯ সালে সম্পন্ন হয়। তবে, এটি প্রায় ছয় বছর ধরে কার্যত ব্যবহার হচ্ছে না।
বর্তমানে, স্টেডিয়ামটি গরু, ছাগল এবং আসবাবপত্রের বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাঠের অবস্থা খুবই খারাপ; পটহোলের কারণে খেলাধুলার জন্য এটি অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, এই স্টেডিয়ামটি যদি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতো, তাহলে এটি যুবকদের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারতো।
স্থানীয় যুবক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমাদের বাড়ির কাছে একটি স্টেডিয়াম আছে, কিন্তু আমরা এটি ব্যবহার করতে পারি না। আমরা ফুটবল অনুশীলন করতে চাই, কিন্তু মাঠটি গর্তে ভরা।”
অন্যদিকে, আকতারুজ্জামান খান অভিযোগ করেছেন, “আমি এখানে টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আমাকে বাধা দিয়েছেন। এখন রাতের বেলায় মাদক বিক্রেতা ও মাদকাসক্তরা এখানে আসে, এবং স্থানীয় প্রশাসন যেন এ বিষয়ে অজ্ঞ।”
স্থানীয় বাসিন্দা তঞ্জিনুর রহমান ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি এই সুবিধাটি কাজে লাগানো না হয়, তাহলে এত টাকা খরচ করে কেন নির্মাণ করা হলো?”
মাঠের অবস্থা এবং ব্যবহারের অভাব নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। মদ্যপান ও মাদকাসক্তির সমস্যা বাড়ছে, যা যুবকদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ করেছে, কিন্তু অনেক স্টেডিয়াম বছরে মাত্র কয়েকটি জাতীয় প্রোগ্রাম আয়োজন করে এবং বাকি সময় অব্যবহৃত থাকে।
মো. রতন বলেন, “অবৈধতার বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করা হয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
স্টেডিয়ামটি স্থানীয় যুবকদের জন্য একটি সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি একটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই স্টেডিয়ামটি কি কখনো তার উদ্দেশ্য পূরণ করবে? বিস্তারিত এখনও নিশ্চিত নয়।



