“তারা আমাকে বলেছিল যে দাঁড়ানো টিকেটও বিক্রি হয়ে গেছে। আমার কাছে অন্য কোনো উপায় ছিল না, তাই আমাকে জরিমানা টিকেট কিনতে হয়েছে।” এই কথাগুলো বলেছেন আবিদ আলী, যিনি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে টিকেটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। বর্তমানে যাত্রীরা ট্রেন টিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকেট বিক্রির কারণে তারা প্রয়োজনীয় টিকেট পেতে পারছেন না। ২০২৩ সালে ঈদ-উল-ফিতরের সময় বাংলাদেশ রেলওয়ে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেম চালু করার পর থেকে এই সমস্যা বেড়ে গেছে। যাত্রীরা জানান, যখনই তারা লগ ইন করেন, তখন সব টিকেট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে যায়। শাহরিয়ার রিফাত বলেন, “যখনই আমি লগ ইন করতে পারি, সব টিকেট ইতিমধ্যে চলে যায়।”
বর্তমানে দাঁড়ানো টিকেট শুধুমাত্র স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হয় এবং এটি মোট আসন ক্ষমতার ২৫% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এদিকে, জরিমানা টিকেট তখনই ইস্যু করা হয় যখন কোনো যাত্রী টিকেট ছাড়া ভ্রমণ করতে ধরা পড়েন।
ঈদ-উল-ফিতরের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি ৩ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হয় এবং ঈদের পরের যাত্রার জন্য ফেরত টিকেট ১৩ মার্চ ২০২৬ থেকে বিক্রি শুরু হয়। এই সময়ে, যাত্রীদের জন্য টিকেট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটগুলো ডিজিটাল সিস্টেমকে ব্যবহার করে টিকেটের বড় পরিমাণ কিনছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহরের রেলওয়ে অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমটি শোhoz-সিনেসিস-ভিনসেন যৌথ উদ্যোগ দ্বারা পরিচালিত হয়। এই যৌথ উদ্যোগ প্রতি টিকেট বিক্রির জন্য ০.২৫ টাকা প্রাথমিক ফি এবং অনলাইনে বিক্রি হওয়া প্রতিটি টিকেটের জন্য অতিরিক্ত ৬.৫০ টাকা উপার্জন করে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এই উদ্যোগটি টিকেট বিক্রি এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাঁচ বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা উপার্জন করার আশা করছে।
অনলাইনে টিকেট বিক্রির উচ্চতর পরিমাণ একটি অতিরিক্ত ৯২ কোটি টাকার রাজস্ব সুযোগ তৈরি করেছে। তবে, অনেক যাত্রী অনলাইন টিকেটিং সিস্টেমে প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা তাদের জন্য আরও অসুবিধা সৃষ্টি করছে।
যাত্রীদের এই দুর্ভোগের মধ্যে, বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। বিস্তারিত এখনও নিশ্চিত নয়।



