১৯শে জুলাই, ২০১৮ ইং, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
ads here

ফিরে দেখা ২০১৫: বছরজুড়ে বিতর্ক-সমালোচনা তবুও ‘সফল’ ইসি

রবিবার, ০৩/০১/২০১৬ @ ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

Saltamami--nazmul-sayeedআরটিএমনিউজ২৪ডটকম,ঢাকা: ভোটার তালিকা হালনাগাদাতে আশঙ্কাজনক হারে নারী ভোটার কম, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে ভোগান্তি, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ, প্রতীক বৈষম্য ও স্মার্টকার্ড প্রদানে বিলম্ব, পৌরসভা নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আচরণবিধি লঙ্ঘন, তিন সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে ‍লুকোচুরি, ভোটে ব্যাপক অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও কারচুপিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনার মধ্যেই ২০১৫ সালটি পার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এতগুলো ‘ব্যর্থতা’র মাঝেও নির্বাচন কমিশন কিছুটা সফলতার মুখ দেখেছে।

নির্বাচন কমিশন বছরের প্রথমে ভাগে অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল দেশের বৃহৎ তিন (ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম) সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও বছরের শেষে ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচনের আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া বেশকিছু উপনির্বাচনও সম্পন্ন করেছে ইসি। যদিও প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ ঠেকাতে ‘ব্যর্থ’ হয়েছে নির্বাচন পরিচালনাকারী এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

তবে ওই ‘ব্যর্থতা’র মাঝেও সামগ্রিক কাজে নির্বাচন কমিশন সফল! এমনটাই দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মনে করি, নির্বাচন কমিশন সফল হয়েছে। তবে আরও ইমপ্রুভ করতে হবে। যাতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা যায়।’

কমেছে নারী ভোটার, অনুপ্রবেশ রোহিঙ্গাদের

২০১৪-১৫ বছরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার কম প্রায় ৬ লাখ, যা পুরুষের তুলনায় ১২ শতাংশ। এতে বছরের শুরুতেই সমালোচনা মুখে পড়ে ইসি।

২০১৫-এর ১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, মোট ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫০ জন নতুন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৬ লাখ ২৯ হাজার ৫০৬ জন ও মহিলা ভোটার ২০ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৪ জন। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬২ জন কম।

তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা কম হওয়ার কারণ হিসেবে হালনাগাদের সময় নির্ধারণ, রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রের স্বল্পতা, কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতা, অব্যবস্থাপনা, মনিটরিং ও প্রচারণার অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। নারী ভোটার সংখ্যা কম হওয়ার স্বয়ং প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক সে সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

প্রচারণার বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘হালনাগাদের আগে যথেষ্ট প্রচারণা হয়েছে। তারপরও বয়স লুকানোর জন্য অনেকে রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে গিয়ে ছবি ওঠায়নি।’

এ ছাড়া ভোটার তালিকা রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ইসি। কক্সবাজারে তদারকি কাজ করে এসে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসিতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির বৈঠকে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ করেন স্বয়ং নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘হালনাগাদে ভোটার বাড়ার কথা ৪ শতাংশ সেখানে আরও আড়াই শতাংশ বেশি বেড়েছে। এটা উদ্বেগের বিষয়।’ পরে অবশ্য বিষয়টি পুনঃতদন্তের জন্য তথ্য সংগ্রকারীদের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রতীক বৈষম্য

চলতি বছরে অনুষ্ঠিত তিন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী প্রার্থীদের পদে নারীদের ব্যবহার্য বস্তু প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইসি। ৮ ডিসেম্বর মহিলা বিষয়ক অধিদফতরে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ ‍চুমকিও ইসির এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন নারী সংগঠন এর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

এসব সমালোচনা, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীক বরাদ্দে কোনো পরিবর্তন না করলেও ইসি তখন বলেছে, সময় স্বল্পতার কারণে প্রতীক সংশোধন করা হয়নি। আগামীতে প্রতীকগুলো বর্জন করা হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতীক হিসেবে নারী প্রার্থীদের কেটলী, খাঁচা, গ্লাস, টিস্যু বক্স, পান পাতা, বোয়াম, মুলা, মোড়া, শীল পাটা ও স্টিল আলমারি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ ছাড়া পৌরসভা নির্বাচনে আঙ্গুর, গ্যাসের চুলা, চকলেট, চুড়ি, পুতুল, ফ্রক ভ্যানিটি ব্যাগ মৌমাছি ও হারমোনিয়াম প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সিটি নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ ও সেনা মোতায়েন নিয়ে ‍‘লুকোচুরি’

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে কারচুপি, জোরপূর্বক ভোটদান, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন।

এরা হলেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও উত্তর সিটি করপোরেশনে তাবিথ আওয়াল এবং চট্টগ্রাম সিটির প্র্রার্থী মনজুর আলম।

এ তিন প্রার্থী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন তারা দফায় দফায় অভিযোগ করলেও এসব বিষয়ে কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে বিএনপির দাবির মুখে ইসি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। প্রথমে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন সিদ্ধান্ত নিলেও পরদিন ক্যান্টনমেন্টে রাখতে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে চিঠি দেয় ইসি। এ নিয়ে কঠোর সমালোচনা মুখে পড়ে ইসি।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সে সময় বলেছিলেন, ‘সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টেই থাকবে। কারণ, ক্যান্টনমেন্ট হচ্ছে ঢাকা মহানগরের মাঝখানে অবস্থিত। সেখান থেকে উত্তর এবং দক্ষিণে যেতে কৌশলগতভাবে (স্ট্রাটেজিক্যালি) সহজ হবে। তাই তাদের ক্যান্টনমেন্টেই অবস্থান নিতে বলা হয়েছে।’

স্মার্টকার্ড প্রদানে বিলম্ব

২০১৪ সালের বিজয় দিবস ও চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পরিচয়পত্রের ইলেক্ট্রনিক কার্ড (স্মার্টকার্ড) নাগরিকদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

২০১৫-এর ১৪ জানুয়ারি ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসে অন্তত প্রতীকী হলেও এ স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু করব।’ কিন্তু সেটা সম্ভব করতে পারেনি ইসি।

১৪ জানুয়ারি স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের জন্য ফরাসি কোম্পানি ওবারথু টেকনোলজির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির মেয়াদ ছিল ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু পরবর্তীকালে তা বাড়িয়ে করা হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর। এ মেয়াদের মধ্যেই ৯ কোটি ভোটারদের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দিতে চায় ইসি।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘স্মার্টকার্ড প্রদানের কাজ চলছে, শুরু করলেই কিন্তু করা যাবে। নির্বাচনের কারণে শুরু করতে পারছি না।’

‘নির্বাচন শেষ হলে নাগরিকরা স্মার্টকার্ড হাতে পাবেন কিনা’— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, তবে এর সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। আমি এইভাবে বলব না যে, নির্বাচন শেষ দিতে পারব। প্রিন্ট হচ্ছে।’

‘এটা বিলম্ব বলার সুযোগ নেই। বিলম্ব বলতে পারেন— আপনার প্রত্যাশার জায়গা থেকে। চুক্তি অনুযায়ী এখনো সময় আছে। সেভাবেই কাজ চলছে’ বলেন সুলতানুজ্জামান।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে ভোগান্তি

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে গিয়ে সারা বছরই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। দূর-দূরান্ত থেকে সেবা প্রত্যাশিত মানুষগুলো ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আসলেও তারা অনেকটা নিরাশ হয়ে ফিরেছেন। তবে যারা অসৎ পথ অবলম্বন করেছেন তারা দিনের কাজ দিনেই শেষ করে ঘরে ফিরেছেন।

এ ছাড়া এই প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে ফি নির্ধারণ করেছে ইসি। এসব ফি প্রদানেও তাদের পদে পদে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফি থাকলেও ব্যাংকগুলো বেশি অর্থ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।

‘নাগরিকরা কেন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে?’— এ প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, ‘বলতে পারেন, কিছুটা ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তবে যারা নিয়ম-নীতি মেনে আসছে না, তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে পুরো নাম পরিবর্তন করতে চাই, কিন্তু সে অনুযায়ী ডকুমেন্ট সাবমিট করতে পারেন না। ফলে তাদের ফেরত দেওয়া হয়। তারাই বলেন, এগুলো ভোগান্তি।’

তিনি বলেন, ‘ভোগান্তির অভিযোগ উঠার কারণে সার্ভিসটা বিভিন্ন জাগায় (জেলা-উপজেলা) স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন ওসব জায়গা থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে পারবে।’

‘এ ছাড়া আমাদের কর্মকর্তা, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল তাদেরও অপসারণ করেছি। কাজেই আমরা ভাল করার চেষ্টা করছি’ বলে দাবি করেন তিনি।

পৌরসভা নির্বাচনে বিধি লঙ্ঘনের ‘মহোৎসব’ ও ‘অনিয়ম’

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনেও কেন্দ্র, দখল জাল ভোট ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে পৌরসভা নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের যেন মহোৎসব চলেছে। এ ছাড়া ভোটের দিন অন্তুত ২ শ’ কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

নির্বাচনের দিন অন্তুত ১ শ’ এবং নির্বাচনের আগে ৫০টির বেশি লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার সমর্থকরা। অভিযুক্তরা অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতা-কর্মী। কিন্তু নির্বাচন কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তেমন দৃশ্যমান ভূমিকা নেয়নি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বিএনপি।

মাঠ পর্যায়ের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে বিরোধী প্রার্থীরা শত শত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে— তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আমলে নিয়ে ৭৮টি অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১৯টির মতো তদন্ত প্রতিবেদন ইসিতে পাঠিয়েছেন। এদের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৮ থেকে ১০টি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। বাকিগুলোর সত্যতা পায়নি ইসি।

সাংবাদিক নির্যাতন ও প্রবেশ কড়াকড়ি

অতীতে একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এই প্রথম ভোটকক্ষে সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে হলে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে বেশিক্ষণ ও ৫ জনের বেশি সাংবাদিক থাকতে পারবে না বলেও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

চলতি বছর অনুষ্ঠিত ঢাকা ও উত্তর ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হয়রানি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিকরা। অভিযোগ উঠলে ইসি এ বিষয়ে তদন্তে নামে। শেষ পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা পায়নি ইসি।

এ ছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ভোগান্তির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের নিজস্ব প্রতিবেদক জিএম মোস্তাফিজুর রহমান ও তার ক্যামেরাপারসন। এ ঘটনায় পরে উপ-সচিব আব্দুল বারীকে অপসারণ করে ইসি। পরে এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেয় ইসি। তদন্ত জমা দিলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ইভিএম জটিলতা কাটেনি

২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে একটি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে ইভিএমের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) সহযোগিতায় এ কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু শুরুর পর থেকেই ইভিএম নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সমস্যা চিহ্নিত করতে বুয়েটকে একাধিকবার অনুরোধ করলেও তারা সমস্যা চিহ্নিত করেনি, বরং উল্টো ইসি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তোলে বুয়েট। পরে নির্বাচন কমিশন বুয়েটকে ইভিএম ফেরত দিতে বলে। এখন পর্যন্ত তারা ইভিএম ফেরত দেয়নি। এদিকে বুয়েটের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় ইভিএমের বিষয়ে ভারতের সহায়তার নেওয়ার চিন্তা করছে ইসি।

২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেটে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩টি কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। স্বাভাবিকভাবে ভোটগ্রহণ হলেও গণনার সময় রাজশাহীর একটি কেন্দ্রে ইভিএম বন্ধ হয়ে যায়। এর থেকে ইভিএম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এখনো তা কাটেনি।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) নির্বাচন

হজ ও তবলীগ জামাত নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় আইন অনুযায়ী টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসন শূন্যটি ঘোষণা করে জাতীয় সংসদ। পরে নির্বাচন ওই আসনের তফসিল ঘোষণা করে। গত ১০ নভেম্বর ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে ইসি। এ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেন লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। কিন্তু মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপির অভিযোগে কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে কাদের সিদ্দিকী ইসিতে আপিল করেন। শুনানি শেষে ইসিও তা খারিজ করে দেন। পরে কাদের সিদ্দিকী উচ্চ আদালতে গেলে আদালত প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। কিন্তু ইসি ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন। পরে আদালত নির্বাচন স্থগিতাদেশ দেন। ফলে এ বছরের জন্য নির্বাচন আটকে যায়। কাদের সিদ্দিকীর অভিযোগ— বেআইনিভাবে ইসি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে।

সফলতার ঢেঁকুর ইসির

নির্বাচন কমিশন বছরের প্রথমে ভাগে অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল দেশের বৃহৎ তিন সিটির নির্বাচন ও বছরের শেষে ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচনের আয়োজন করেছে। এ ছাড়া বেশকিছু উপনির্বাচনও সম্পন্ন করেছে। যদিও প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ ঠেকাতে ইসি ‘ব্যর্থ’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি।

সমালোচনা ও ব্যর্থতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মনে করি, নির্বাচন কমিশন সফল হয়েছে। তবে আরও ইমপ্রুভ করতে হবে। যাতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা যায়। আগামী দিনের নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে করা যায় সেই চেষ্টা থাকবে।’

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রমেও আংশিক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন। তিনি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘অনেকগুলো সীমাবদ্ধতার মধ্যে সার্বিক কার্যক্রমে পূর্ণ সেটিসফাইড নয়, তবে আংশিক সেটিসফাইড। তবে উন্নতির অনেক স্কোপ আছে। আমরা করব ইনশাল্লাহ।’

আরটিএমনিউজ২৪ডটকম/এন এ কে

ফেনীর জুলেখাকে যুবক সাজিয়ে যা করতে চেয়েছে মা-বাবা আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, ফেনী: বাংলাদেশের
অবশেষে মারা গেল 'বঙ্গ বাহাদুর' খ্যাত সেই হাতিটি আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, ঢাকাঃ ভারত থেকে
  আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, অনলাইন ডেস্কঃ বাসা-বাড়িতে নয় এবার বিয়ের দাবিতে কর্মকর্তার অফিসেই অনশন করছেন এক প্রেমিকা।  প্রেমিকাকে
আরটিএমনিউজ২৪ডটকম,ঢাকা: ২০১৫ সাল প্রায় শেষের দিকে। হাতছানি দিয়ে ডাকছে নতুন বছর। নতুন বছরের আগমনে আরও একটি

[caption id="attachment_36123" align="aligncenter" width="672"] ফেনীর জুলেখাকে যুবক সাজিয়ে যা করতে চেয়েছে মা-বাবা[/caption] আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, ফেনী: বাংলাদেশের
[caption id="attachment_29630" align="aligncenter" width="300"] অবশেষে মারা গেল 'বঙ্গ বাহাদুর' খ্যাত সেই হাতিটি[/caption] আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, ঢাকাঃ ভারত থেকে
  আরটিএমনিউজ২৪ডটকম, অনলাইন ডেস্কঃ বাসা-বাড়িতে নয় এবার বিয়ের দাবিতে কর্মকর্তার অফিসেই অনশন করছেন এক প্রেমিকা।  প্রেমিকাকে
আরটিএমনিউজ২৪ডটকম,ঢাকা: ২০১৫ সাল প্রায় শেষের দিকে। হাতছানি দিয়ে ডাকছে নতুন বছর। নতুন বছরের আগমনে আরও একটি