, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

admin

জীবন্ত লাশ দেখার ইচ্ছা হয় ? মালয়েশিয়ায় জেলে থাকা প্রবাসীদের দেখে আসুন।

প্রকাশ: ২০১৯-১২-০২ ০৭:৫৭:১০ || আপডেট: ২০১৯-১২-০২ ০৭:৫৮:৫৫

Spread the love

আজকাল খুবই বেদনাদায়ক আর হতাশাভরা শব্দের নাম হল হায়রে প্রবাস জীবন” সোনার হরিণ খুঁজতে গিয়ে নিকৃষ্ট মানবে পরিণত হচ্ছে আমাদের সোনার ছেলেরা।

৫/৬ লাখ টাকা খরচ করে মালেশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশে গিয়ে বসবাসের জায়গা মিলছে কুখ্যাত আবু গারিবের মত কারাগারে, ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর যুবকরা লাশে পরিণত হচ্ছে ভূমধ্যসাগরে।

প্রবাসে শত কষ্টে থাকা সোনার ছেলেদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনের সেবা পাওয়া মানে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া।

২০১৯ সালে পুরো বছর জুড়ে আলোচনায় ছিল মালেশিয়ায় থাকা হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক।

এই সকল প্রবাসী শ্রমিকেদের সমস্যা সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয়নি আমাদের সরকার বাহাদুর।

গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল আলোচনা চলছে অবৈধ শ্রমিকদের তাড়াতে মালেশিয়ান সরকারের কঠোর আইন নিয়ে।

গত সপ্তাহে কুয়েতেও শ্রমিক অসন্তোষের কথা বেশ ফলাও করে প্রচার হয়েছে।

সম্প্রতি দুই মালেশিয়ান প্রবাসীর ফোন আলাপের একটি স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে ফেইচবুকে”।

প্রবাসীদের স্বার্থে interior design at Dhaka/ ctg/ sylhte নামের পেইজ থেকে স্ট্যাটাসটি হুবহু আরটিএমে পাবলিশ করা হল।

সকালে মালয়েশিয়া থেকে একটা কল আসে, রিসিভ করতেই ভেসে আসে হতাশাগ্রস্ত ক্লান্ত কণ্ঠস্বর। সালাম দিয়ে বলে ভাইয়া আমি প্রবাস (ছদ্মনাম), মালয়েশিয়া থেকে, চিনছেন!
আমি আমতা আমতা করে বল্লাম হ্যাঁ প্রবাস কি খবর!
ভাইয়া ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরতে হবে, এজেন্ট টিকেটের দাম চাচ্ছে ৩ হাজার রিংগিত, ভাইয়া একটা পরামর্শ দেন, কি করবো বুজতে পারছিনা।
আমি তাকে সরাসরি কোনো ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করতে বলে ফোন রাখলাম।

নিজেকে প্রবাসের চাইতেও বড় অসহায় মনেহচ্ছে, আমি ইচ্ছে করেই কোনো ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানা দেইনি কারন সেখানে কিছুটা কমে পেলেও সেটাও হবে তার শরিরের শেষ রক্তবিন্দু চুষেনেয়ার সমান।
অথচ আমার কাছে এই অসহায় মানুষগুলোর প্রত্যাশা বারাবরই আনেক বেশি।

আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়শিয়ায় অবস্থানরত সকল অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফিরতে হবে, যারা এই সাধারণ ক্ষমা গ্রহনে ব্যার্থ হবে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হবে কঠোর ব্যাবস্থা। মালয়েশিয়া সরকার এই ঘোষণা দিয়ে রেখেছে অনেক আগেই।

মালয়েশিয়া সরকারের এই ঘোষণার পর থেকে সেদেশে নতুন শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আমাদের সরকার তথা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাস যতটা তৎপর ছিলো ঠিক তার ছেয়ে বেশি উদাসীন ছিলো সেখানে অবস্থানরত অবৈধ শ্রমিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে!

এত অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীকে দেশে ফিরিয়ে নিতে আমাদের দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা না থাকার সুযোগে এয়ারলাইন্স সিন্ডিকেট টিকেটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ৩/৪ গুন, দালাল পর্যায়ে যা আরো অনেক বেশি।
এর পরেও টিকেট নাই।

শুধু টিকেটের কারনেই মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সময়সীমার মধ্যে অধিকাংশ অবৈধ শ্রমিকের দেশে ফিরে আসা একেবারেই অনিশ্চিত।
একটি স্বাধীন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেশ হিসাবে আমাদের সরকারের উচিৎ মালয়শিয়া সরকারের সাথে আলোচনা করে বিশেষ ব্যাবস্থায় আটকে পড়া বাংলাদেশীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাবস্থা করা।
সরকার চাইলে বিশেষ বিমান ভাড়া করে এবং প্রয়োজনে জাহাজে করে সাগর পথে সহজেই স্বসম্মানে এই হতভাগ্য প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাবস্থা করতে পারে।

বিশেষ ব্যাবস্থায় স্পেশাল ফ্লাইটে বিদেশ থেকে পেয়াজ আনতে পারলে দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো জলজ্যান্ত মানুষগুলোকে ফিরিয়ে আনা অবশ্যই সম্ভব।
যদি সরকারের উদাসিনতার কারনে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উপর বিপর্যয় নেমে আসে বুজতে হবে এদেশে পেয়াজের চেয়েও মূল্যহীন মানুষের জীবন।

★মালয়েশিয়ার জেল★
——————————-
মালয়েশিয়ার জেল আর আবু গারিব কারাগারের মধ্যে পার্থক্য খুব কম। উলঙ্গ করে রাখা, নির্যাতন করা,আদা সেদ্ধ মাছ, এক মোট ভাত, চিকিৎসা বিহীন রাখা, উন্মুক্ত গোসলখানা এবং টয়লেট। ৫ জনের শোবার জায়গায় ২০ জনকে থাকতে হয়। এক জেল থেকে অন্য জেলে প্রেরণ,এক মিনিট কথা বলার জন্য হাজার টাকা দিলেও চান্স মেলে না। নিজ প্রচেষ্টায় মুক্ত হবার উপায় ৫%। হাই কমিশনের সাহায্য পাওয়া আর আসমানের চাঁদ হাতে পাওয়া সমান কথা। নেপাল ইন্ডিয়ার লোকেরা স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাদের হাই কমিশন এর মাধ্যমে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে যায়। আর সোনার দেশের ছেলেরা ভাগ্য ভালো হলে ৪/৫ মাস জেল খাটার পর আর পুড়া কপালের হলে বছর পার হয়ে যায়।

প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন মালয়েশিয়ায় আটক নতুন পুরাতন প্রবাসীদের দ্রুত মুক্ত করার ব্যবস্থা নিন। কারো যদি জীবন্ত লাশ দেখার ইচ্ছা হয় মালয়েশিয়ায় জেলে থাকা প্রবাসীদের দেখে আসুন।

নিউজ ডেস্কঃ কাল ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ সাল, মহান বিজয় দিবস। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে
কাশ্মীরের লাইন অব কন্ট্রোলে (এলওসি) পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় দুই ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। এসময়
অশান্তি হবে জানা ছিল। কিন্তু এ ভাবে বিক্ষোভের আগুন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গোটা অসমে ছড়িয়ে যাবে
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় রাত নামলেই বাড়ে বন্য হাতির আতঙ্ক,ঘুমহীন এলাকাবাসীর রাত কাটে আতংকিত অবস্থায়। অথচ নীরব
রাকিবউদ্দিন, বিনোদন ডেস্কঃ বেঁধে রাখা, সেতো বাঁধা নয়, সময়ের অনুভূতি ও চিন্তাগুলো ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Logo-orginal