চিম্পাঞ্জিরা সমাজে কখনও কখনও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের শিকার হয়। ১৯৭০-এর দশকে জেন গুডালের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে চিম্পাঞ্জিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের উদাহরণ। বর্তমানে, উগান্ডার কিবালে জাতীয় উদ্যানে নাগো চিম্পাঞ্জি গোষ্ঠী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ২৮টি চিম্পাঞ্জির মৃত্যু হয়েছে।
নাগো গোষ্ঠীটি আগে বৃহত্তম পরিচ্ছন্ন চিম্পাঞ্জি সম্প্রদায় ছিল, কিন্তু বর্তমানে এর সামাজিক কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সংঘাতের ফলে গোষ্ঠীর মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০১৪ সালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের মৃত্যু এবং ২০১৭ সালে এক অসুখের কারণে ২৫টি চিম্পাঞ্জির মৃত্যু এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
গবেষক অ্যারন স্যান্ডেল বলেন, “তারা শুধু শিকারকে নিরন্তর মারধর করে এবং লাফিয়ে ওঠে।” নাগো গোষ্ঠীর বিভক্তির পর পশ্চিম এবং কেন্দ্রীয় গোষ্ঠী দুটি তৈরি হয়েছে। পশ্চিম গোষ্ঠীটি সংঘাতে কোনও ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি, যা এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গবেষক জন মিতানি এই পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, “এটি আমার পক্ষে বোঝা কঠিন যে গতকালের বন্ধু আজকের শত্রুতে পরিণত হয়েছে।” সংঘাতটি গবেষকদের দ্বারা “গৃহযুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে। গবেষক জেকব নেগ্রে বলেন, “যুদ্ধ চলছে—এটি এখনও শেষ হয়নি।” চিম্পাঞ্জিদের মধ্যে এই ধরনের সংঘাত সাধারণত ৫০০ বছরে একবার ঘটে, যা এই ঘটনাকে বিরল করে তোলে।
গবেষকরা ১৯৯৫ সাল থেকে নাগো চিম্পাঞ্জিদের অধ্যয়ন শুরু করেছেন এবং তারা এই সংঘাতের সামাজিক ও আচরণগত প্রভাবগুলি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছেন।
এখন, পর্যবেক্ষকরা আশা করছেন যে এই সংঘাতের পরিণতি চিম্পাঞ্জি সমাজে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। তবে, বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত নয়।



