মূল মুহূর্তগুলো
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার শার্ক বে এলাকায় ঘূর্ণিঝড় নরেল আসার আগে, স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে, ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে, একটি অস্বাভাবিক লাল আকাশের ঘটনা ঘটে যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
ঘূর্ণিঝড় নরেল শার্ক বে থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করে। এই সময়, আকাশের রঙ রক্ত লাল হয়ে যায়, যা একটি লোহা সমৃদ্ধ ধূলিঝড়ের কারণে ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা কেরি শেপার্ড বলেন, “বিকেলের দিকে আকাশের রঙ আরও বেশি কমলা হতে থাকে, এবং ঠিক বিকেল ৩:৩০ টায়, আমরা বাইরে গিয়ে দেখি এটি সেই রঙে পরিণত হয়েছে।”
ঘূর্ণিঝড় নরেল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার একাধিক অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এক্সমাউথে, ঘূর্ণিঝড়ের ফলে ভবনের ছাদ উড়ে যায় এবং স্থানীয় বিমানবন্দরের ক্ষতি হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০টি পশুপালন সম্পত্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি কলা চাষী তার ফসলের ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবের পর, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী রজার কুক ঘোষণা করেন যে, গুরুতর বাড়ির ক্ষতির জন্য এককালীন ২০০০ ডলার এবং সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া বাড়ির জন্য ৪০০০ ডলার প্রদান করা হবে। এই পরিস্থিতির ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ এবং হতাশা দেখা দেয়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ অঙ্গাস হাইনস বলেন, “এটি যে ঘটনাটি আমি কখনও দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক উদাহরণ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “বাইরে অবিশ্বাস্যভাবে ভুতুড়ে ছিল, এবং সবকিছু ধূলির মধ্যে ঢাকা ছিল।”
ঘূর্ণিঝড় নরেল অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়, কারণ এটি ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তিনটি রাজ্য এবং অঞ্চলগুলোতে প্রবেশ করা প্রথম ঝড়। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষি এবং অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।
এখনও কিছু তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি, তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতির পরিমাণ এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।



