israel iran conflict — BD news

Israel iran conflict

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রভাব

ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ফলে ইরানে ১,৩০০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১০,০০০টি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কারণ ও ফলাফল

ইরানের পুলিশ প্রধান আহমাদ-রেজা রাদান সতর্ক করেছেন যে, যারা দেশের শত্রুদের সমর্থন করবে তাদেরকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। হামাস তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিয়োগের জন্য ইরানের ‘ভাইদের’ অভিনন্দন জানিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে যে, তারা ইসরায়েলে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে সামরিক গোয়েন্দা সদর দপ্তর এবং হাইফার একটি নৌঘাঁটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, ইরানের জ্বালানি ডিপোতে হামলার পর ‘কালো বৃষ্টি’ নামে পরিচিত দূষিত বৃষ্টিপাত স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানি ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ প্রতিহত করেছে, যা রাজ্যটির দিকে লক্ষ্য করে ছিল। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার খবর দিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

পেন্টাগন জানিয়েছে যে, অপারেশন Epic Fury শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৪০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছে এবং ৭ জন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছে যে, ইসরায়েলে নিক্ষিপ্ত সব ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জানিয়েছে যে, তারা ইরানি জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জন্য ‘খুশি নয়’।

নৌপথের সংকট

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে যে, তারা হরমুজ প্রণালীতে ১৬টি নিষ্ক্রিয় ইরানি মাইন-লেয়িং জাহাজ ধ্বংস করেছে। সংঘাতের কারণে ৩০টিরও বেশি জার্মান জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে, যা ১০টি শিপিং কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করছে।

শিক্ষার্থীদের হতাহতের ঘটনা

ইরানে একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ফলে ১৭৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এই ঘটনা সংঘাতের ভয়াবহতা এবং এর মানবিক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

যদিও সংঘাতের পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে, যুদ্ধ শীঘ্রই শেষ হতে পারে, কারণ মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘কিছুই অবশিষ্ট’ নেই। জার্মানির জোহান ওয়েডফুল বলেছেন, “আমি হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের প্রশ্নে কেবল একটি কূটনৈতিক সমাধান দেখতে পাই, সামরিক নয়।”

ইরানের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে হামলার ফলে ‘কেউই উপকার পায় না’ বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আল-খুলাইফি। পরিস্থিতি জটিল এবং ভবিষ্যৎ কি হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।