world cup — BD news

World cup: বিশ্বকাপ: হাইতির প্রথম যোগ্যতা ৫২ বছর পর

বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। এই বিশ্বকাপটি অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে। এই আসরে হাইতি তাদের প্রথমবারের মতো যোগ্যতা অর্জন করেছে ১৯৭৪ সালের পর। হাইতির ফুটবল দলের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, বিশেষ করে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য এবং অপরাধের প্রেক্ষাপটে।

হাইতি গ্রুপ সি তে রয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ব্রাজিল, মরক্কো এবং স্কটল্যান্ড। এই গ্রুপে তাদের প্রথম ম্যাচ হবে ১৩ জুন, নিউ জার্সিতে। হাইতির প্রধান স্টেডিয়াম, সিলভিও কাটর স্টেডিয়াম, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে গ্যাং সহিংসতার কারণে বন্ধ রয়েছে।

হাইতির সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ফুটবল দলের জন্য ২৬৪ মিলিয়ন গৌরদ (২ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে যোগ্যতা বোনাস হিসেবে। হাইতির জনসংখ্যা প্রায় ১২ মিলিয়ন, এবং ফুটবল দেশটির মানুষের মধ্যে আশা এবং ভালোবাসার প্রতীক। হাইতির ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট সালোমে স্যান্ডলার ট্যালি বলেছেন, “ফুটবল আশা এবং ভালোবাসা। এটি গর্ব এবং আবেগকে অনুপ্রাণিত করে।”

এদিকে, ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার, যিনি দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হাঁটুর আঘাতের কারণে খেলতে পারেননি। কার্লো আনচেলোত্তি, ব্রাজিলের কোচ, নেইমারের বিশ্বকাপ দলে থাকার সম্ভাবনা খোলামেলা রেখেছেন। তিনি বলেন, “তিনি একটি মহান প্রতিভা, এবং এটি স্বাভাবিক যে মানুষ মনে করে তিনি আমাদের পরবর্তী বিশ্বকাপ জিততে সাহায্য করতে পারেন।”

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৮২ সালে কুয়েতের একটি বিতর্কিত ঘটনার কথা মনে পড়ে, যেখানে একটি ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্তে কুয়েতের একজন প্রিন্স প্রভাব ফেলেছিলেন। সেই সময় থেকে কুয়েত আর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে আসেনি।

হাইতির ফুটবল দলের জন্য এই যোগ্যতা অর্জন একটি বড় সাফল্য, যা দেশের মানুষের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ এবং আবেগকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। প্যাট্রিস ডুমন্ট, একজন ফুটবল বিশ্লেষক, বলেন, “আপনাদের প্রতিটি সম্প্রদায়ে ফুটবল দেখা যায় — যেখানে স্থান আছে, সেখানে তিন-দলের ম্যাচ থেকে শুরু করে পূর্ণ ১১-দলের খেলা সবই হয়, সবসময় বিশাল দর্শকের সমাগম হয়।”

বর্তমানে, হাইতির ফুটবল দল তাদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং দেশের মানুষ তাদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার জন্য অপেক্ষা করছে। এই মুহূর্তটি শুধুমাত্র ফুটবলের জন্য নয়, বরং হাইতির জাতীয় পরিচয়ের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।